আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নির্বাচনে ৬০ শতাংশ ভোট গণনা শেষে এগিয়ে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন লিকুদ পার্টি। দেশটির কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির সর্বশেষ আনুষ্ঠানিক ফলাফল অনুযায়ী, দলটি ২১ দশমিক ৪ শতাংশ ভোট পেয়ে প্রথম স্থানে রয়েছে। অন্যদিকে, প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকোটের ইয়াশার পার্টি পেয়েছে ১৬ দশমিক ২ শতাংশ ভোট।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) প্রকাশিত এ ফলাফলে নির্বাচনে নেতানিয়াহুর দলের এগিয়ে থাকার চিত্র উঠে এসেছে। তবে চূড়ান্ত ফলাফল এবং সরকার গঠনের সমীকরণ এখনো নির্ভর করছে বাকি ভোট গণনা ও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে জোট গঠনের আলোচনার ওপর।
ইসরায়েলের নির্বাচনী ব্যবস্থায় ভোটাররা সরাসরি কোনো প্রার্থীকে নয়, বরং রাজনৈতিক দলকে ভোট দেন। পরবর্তী সময়ে দলগুলো পার্লামেন্টে প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের লক্ষ্যে জোট গঠন করে সরকার প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করে। দেশটির রাজনৈতিক ইতিহাসে এখন পর্যন্ত কোনো একক দল এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি।
এবারের নির্বাচনে ভোটারদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি দেখা গেছে। প্রায় ৮০ শতাংশ নিবন্ধিত ভোটার ভোট দিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একইভাবে, আরব ভোটারদের অংশগ্রহণও প্রায় ৮০ শতাংশে পৌঁছেছে, যা ২০২২ সালের নির্বাচনের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি।
ইসরায়েলের আরব জনগোষ্ঠীর মধ্যে ভোটদানের হার বাড়ার পেছনে জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরের নীতি, বাড়িঘর ভাঙার ঘটনা এবং আরব অধ্যুষিত এলাকায় সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতাসহ বিভিন্ন বিষয়কে কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে।
বুথফেরত জরিপের পূর্বাভাস অনুযায়ী, পরবর্তী নেসেটে—ইসরায়েলের পার্লামেন্টে—আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলো ১৮টি আসন পেতে পারে। তবে রাজনৈতিক মতপার্থক্যের কারণে নেতানিয়াহু ও তাঁর বিরোধী শিবির—উভয় পক্ষই এসব দলের সমর্থন নিয়ে সরকার গঠনে অনাগ্রহী বলে বিশ্লেষকদের মত।
ইসরায়েলের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে জোট গঠন নিয়ে সমঝোতা না হলে নির্বাচনে এগিয়ে থেকেও নেতানিয়াহুর পক্ষে সরকার গঠন কঠিন হয়ে উঠতে পারে। একইভাবে, বিরোধী দলগুলোকেও সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে রাজনৈতিক সমঝোতায় পৌঁছাতে হবে।
নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল প্রকাশের পর দেশটির প্রেসিডেন্ট এমন একজন দলীয় নেতাকে সরকার গঠনের দায়িত্ব দেবেন, যাঁর পার্লামেন্টে আস্থা অর্জনের মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। এরপর মনোনীত নেতাকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিভিন্ন দলের সঙ্গে আলোচনা করে কার্যকর জোট সরকার গঠনের চেষ্টা করতে হবে।
সব মিলিয়ে, ভোট গণনায় লিকুদ পার্টি এগিয়ে থাকলেও ইসরায়েলের পরবর্তী সরকার শেষ পর্যন্ত কারা গঠন করবে, তা নির্ধারণে জোটের সমীকরণই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
সূত্র: আল জাজিরা