পবিপ্রবি প্রতিনিধি:
দেশজুড়ে চলমান প্রকৌশলী অধিকার আন্দোলনের সময় প্রকৌশলীদের ওপর লাঠিয়াল বাহিনীর নৃশংস হামলার প্রতিবাদে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) অনুষদের শিক্ষার্থীরা এক বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে।
বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) বিকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি চত্বর থেকে এ সমাবেশ শুরু হয়। পরে সমাবেশটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম গেট, প্রধান ফটক প্রদক্ষিণ করে প্রশাসনিক ভবনের সামনে গিয়ে শেষ হয়।
সমাবেশে শত শত শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে ন্যায়সঙ্গত দাবি আদায়ের শপথ নেন।
সমাবেশ শেষে প্রকৌশলী অধিকার আন্দোলন পবিপ্রবি শাখার ক্যাম্পাস সমন্বয়ক হাসান আহাম্মেদ আন্দোলনের পক্ষ থেকে তিন দফা দাবি উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, “প্রকৌশলীদের দাবি শুধু ন্যায্য নয়, এটি দেশের প্রযুক্তি ও উন্নয়নের স্বার্থেও অত্যন্ত জরুরি। অথচ আন্দোলনরত প্রকৌশলীদের ওপর পুলিশ যে অমানবিক লাঠিচার্জ চালিয়েছে তা ঘৃণ্য এবং মানবাধিকারের পরিপন্থী। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই।”
আন্দোলনের তিন দফা দাবি হলো:
১. সহকারী প্রকৌশলী (৯ম গ্রেড) বা সমমান পদে শুধুমাত্র পরীক্ষার মাধ্যমে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে হবে এবং এ পদে কেবল বিএসসি ডিগ্রিধারীদের সুযোগ দিতে হবে।
২. উপ-সহকারী প্রকৌশলী (১০ম গ্রেড) পদে বিএসসি ও ডিপ্লোমা উভয় ডিগ্রিধারীদের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।
৩. “ইঞ্জিনিয়ার” পদবিটি কেবলমাত্র বিএসসি ডিগ্রিধারীদের জন্য সংরক্ষিত রাখতে হবে এবং এ বিষয়ে আইন ও গেজেট প্রকাশ করতে হবে।
শিক্ষার্থীরা আরও দাবি করেন, ডিপ্লোমা ডিগ্রিধারীদের নামের আগে ‘টেকনিশিয়ান’ শব্দটি ব্যবহার করতে হবে, কিন্তু ‘ইঞ্জিনিয়ার’ উপাধি কোনোভাবেই যুক্ত করা যাবে না।
এ সময় বক্তব্য রাখেন সিএসই অনুষদের ৮ম সেমিস্টারের শিক্ষার্থী রেদোয়ান, মহিদুল, ফরাজি, রাশেদ, ইজাজ ও রাদ। তারা বলেন, “আমরা প্রকৌশলীদের অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে ঐক্যবদ্ধ। আমাদের দাবি ন্যায্য, এ দাবিগুলো পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।”
একইসাথে আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক ও সিএসই ৭ম সেমিস্টারের সিআর বায়েজিদ আহমেদ জোরালো কণ্ঠে বলেন, “প্রকৌশলীরা দেশের মেরুদণ্ড। আমাদের দাবি উপেক্ষা করা হলে এই আন্দোলন আরও বিস্তৃত হবে।”
আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ জানান, দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো পবিপ্রবির শিক্ষার্থীরাও এই আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করছে। প্রকৌশলীদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তারা রাজপথে থেকে গণআন্দোলন চালিয়ে যাবে।