বরিশাল প্রতিনিধি: জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি ও এলপিজি গ্যাসের সংকটে বরিশালের হোটেল-রেস্তোরাঁয় বেড়েছে রান্নার খরচ। এর প্রভাব পড়েছে খাবারের দামে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে দাম না বাড়িয়ে কমিয়ে দেওয়া হয়েছে খাবারের আকার।
ব্যবসায়ীরা জানান, ১০ টাকার পরোটা এখন বিক্রি হচ্ছে ১৫ টাকায়। আর ৫ টাকার পুরি-শিঙাড়ার দাম অপরিবর্তিত থাকলেও আকার ছোট করা হয়েছে। মাছ-মাংসসহ বিভিন্ন খাবারের দামও জনপ্রতি ১০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।
এদিকে নগরীতে ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। অধিকাংশ খুচরা দোকানে গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। কোথাও পাওয়া গেলেও দাম নেওয়া হচ্ছে ২ হাজার টাকার বেশি। ব্যবসায়ীদের দাবি, প্রায় এক মাস ধরে কোম্পানিগুলো চাহিদা অনুযায়ী এলপিজি সরবরাহ করতে পারছে না। এর সঙ্গে পাইকারি দাম বাড়ায় সংকট আরও তীব্র হয়েছে।
সান গ্যাসের বরিশালের ডিলার জুয়েল বলেন, ২৬ সেপ্টেম্বর পাইকারি বাজারে ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ৫৫ টাকা বেড়েছে। আগে ১ হাজার ৫৮৫ টাকা থাকলেও এখন তা ১ হাজার ৬৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সরবরাহ কম থাকায় খুচরা ব্যবসায়ীদের চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
কাউনিয়ার বাসিন্দা আলামিন বলেন, স্থানীয় দোকানগুলোতে গ্যাস না পেয়ে অনেক ঘুরে বেশি দামে সিলিন্ডার কিনতে হয়েছে।
অন্যদিকে ২০ সেপ্টেম্বর দেশে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়ানো হয়। ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, জ্বালানি, এলপিজি, কাঁচামাল ও শ্রমিকের খরচ বেড়ে যাওয়ায় আগের দামে খাবার বিক্রি করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ী নুরু মিয়া বলেন, তেলের দাম বাড়ার পাশাপাশি এলপিজির দাম ও সংকট—দুই দিক থেকেই চাপ তৈরি হয়েছে। তাই পরোটার দাম ১০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৫ টাকা করা হয়েছে। তবে ৫ টাকার পুরি-শিঙাড়ার দাম না বাড়িয়ে আকার কিছুটা ছোট করা হয়েছে।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর বরিশাল বিভাগের সহকারী পরিচালক ইন্দ্রানী দাস বলেন, বিষয়টি নিয়ে দ্রুত তদারকি করা হবে।