বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ধারাবাহিক সংলাপে বসছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আজ বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) বিকেলে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর একটি প্রতিনিধিদল প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন-এর সঙ্গে বৈঠকে বসেছে।
বিকেল ৪টার দিকে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের সিইসির কক্ষে শুরু হয় এই বৈঠক।
প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতা হামিদুর রহমান আযাদ
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, জামায়াতের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ।
জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও আইনজীবী অ্যাডভোকেট জসিম উদ্দিন সরকার,
ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের নায়েবে আমির এবং কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য আব্দুর রহমান মূসা।
বৈঠকে দলটির পক্ষ থেকে সম্ভাব্য নির্বাচনী প্রস্তুতি, রাজনৈতিক অংশগ্রহণ, সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড এবং নিবন্ধন সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইসির ব্যস্ত দিন: রোডম্যাপ ও রাজনৈতিক সংলাপ একসঙ্গে
প্রসঙ্গত, জামায়াত প্রতিনিধিদলের সঙ্গে এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে এমন সময়, যখন নির্বাচন কমিশন নিজস্ব কক্ষে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রোডম্যাপ চূড়ান্ত করতে চার নির্বাচন কমিশনার ও ইসি সচিবালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক পরিচালনা করছে।
এর আগে গত রোববার (১৮ আগস্ট) বিএনপির একটি প্রতিনিধিদল ইসির সঙ্গে বৈঠক করে। সেখানে তারা নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতি, নিরপেক্ষতা, প্রশাসনের ভূমিকা ও ভোটার তালিকা সংশোধন ইত্যাদি বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করে।
রাজনৈতিক মাঠে নীরব জামায়াত, তবে ইসির দ্বারস্থ
দীর্ঘদিন ধরেই দেশের রাজনীতির মাঠে সক্রিয়ভাবে দেখা না গেলেও জামায়াতে ইসলামীর এই বৈঠকটি বেশ তাৎপর্যপূর্ণ বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন। বিশেষ করে দলটির নিবন্ধন বাতিলের পরও বিভিন্ন সময় তারা রাজনৈতিক কর্মসূচি ও বিবৃতির মাধ্যমে সক্রিয় থাকার চেষ্টা করেছে।
নিবন্ধন পুনর্বহাল, নির্বাচন অংশগ্রহণ ও দলের সাংগঠনিক ভবিষ্যৎ—এসব ইস্যুতে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে এই আলোচনা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক দলগুলোর আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি শুরু হয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে। বিএনপির পর এবার জামায়াতে ইসলামীর প্রতিনিধিদের এই বৈঠক নির্বাচন কমিশনের প্রতি রাজনৈতিক দলগুলোর আগ্রহ ও মনোযোগেরই প্রতিফলন।
এখন দেখার বিষয়—এই সংলাপ থেকে কতটা রাজনৈতিক সমঝোতা, নির্বাচনী পরিবেশ ও অংশগ্রহণমূলক ভোটের নিশ্চয়তা উঠে আসে।