আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইসরায়েলে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামলার তৃতীয় বার্ষিকী পালিত হচ্ছে বুধবার। এ উপলক্ষে দেশজুড়ে নিহতদের স্মরণে বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। কঠোর নিরাপত্তার মধ্যেই এসব কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ভোরে গাজা উপত্যকা নিয়ন্ত্রণকারী হামাস ও সহযোগী প্যালেস্টাইনিয়ান ইসলামিক জিহাদের সশস্ত্র যোদ্ধারা ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলে নজিরবিহীন হামলা চালায়। ইসরায়েলি সরকারি পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে এএফপির হিসাবে, ওই হামলায় ১ হাজার ২২১ জন নিহত হন। এ সময় ২৫১ জনকে জিম্মি করে গাজায় নিয়ে যাওয়া হয়।
হামলার তিন বছর পূর্তির এই সময়েই ইসরায়েলে জাতীয় নির্বাচনের তোড়জোড় চলছে। আগামী ২৭ অক্টোবর নেসেট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। ফলে এবারের নির্বাচনী প্রচারে ৭ অক্টোবরের হামলা, নিরাপত্তা পরিস্থিতি, গাজা যুদ্ধ এবং জিম্মিদের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
যুদ্ধ শুরুর পর এবারই প্রথম যুদ্ধবিরতির পরিবেশে ৭ অক্টোবরের স্মরণ অনুষ্ঠান হচ্ছে। এর আগে আয়োজিত স্মরণ কর্মসূচিগুলোর সময়ও গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযান চলছিল।
হামলার সময় স্থানীয় সময় ভোর ৬টা ২৯ মিনিটে কিবুতজ কফার আজায় শ্রদ্ধা নিবেদন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। হামলার দিন ওই এলাকায় ৬৪ জন নিহত এবং ১৮ জন অপহৃত হন। একইভাবে দক্ষিণ ইসরায়েলের নোভা মিউজিক ফেস্টিভ্যালের স্থানেও স্মরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে হামলায় ৩৭০ জনের বেশি মানুষ নিহত হন এবং অনেকে জিম্মি হন।
এ ছাড়া তেল আবিবের একটি পার্কে হামলায় স্বজন হারানো পরিবারগুলোর অংশগ্রহণে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
বার্ষিকী উপলক্ষে দেশজুড়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, গাজায় অবস্থানরত সেনাদের লক্ষ্য করে হামাসের সম্ভাব্য হামলার গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সেনাবাহিনীকে উচ্চ সতর্কতায় রাখা হয়েছে।
এর আগে সোমবার রাষ্ট্রীয় স্মরণসভায় প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেন, গাজায় হামাসের শাসন মেনে নেওয়া হবে না। ৭ অক্টোবরের হামলায় জড়িত ব্যক্তি এবং জিম্মি আটকে রাখার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রাখার কথাও জানান তিনি।
৭ অক্টোবরের হামলার পর ইসরায়েল গাজায় ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরু করে। দীর্ঘ সংঘাতে গাজার বিস্তীর্ণ এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলি অভিযানে ৭৪ হাজার ২০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। নিহতদের বড় একটি অংশ শিশু ও নারী। জাতিসংঘও গাজার হতাহতের পরিসংখ্যানকে সামগ্রিকভাবে নির্ভরযোগ্য হিসেবে বিবেচনা করে।
এদিকে যুদ্ধের তিন বছরে ইসরায়েলি সামরিক তৎপরতা গাজার বাইরেও বিস্তৃত হয়েছে। লেবাননের হিজবুল্লাহর সঙ্গে সংঘাতের পাশাপাশি ইরানকে ঘিরেও উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও গাজার মানবিক পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি। লাখ লাখ মানুষ এখনো তাঁবু ও অস্থায়ী আশ্রয়ে বসবাস করছেন। রাজনৈতিক সমাধান ও পুনর্গঠন নিয়েও অনিশ্চয়তা কাটেনি।
ইসরায়েলের দাবি, তারা গাজার ৬০ শতাংশের বেশি এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে এবং হামাসের হুমকি নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে যাবে। অন্যদিকে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় ১ হাজার ৪৩০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।
সূত্র: এএফপি, ফ্রান্স ২৪