বাবুল রহমান রবিন, গাইবান্ধা প্রতিনিধি: আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সামনে রেখে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ৩ নম্বর তারাপুর ইউনিয়নে নির্বাচনী তৎপরতা শুরু হয়েছে। বর্তমান চেয়ারম্যান মো. আমিনুল ইসলামও পুনরায় নির্বাচনের লক্ষ্যে ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ ও মতবিনিময় করছেন। বাড়ি বাড়ি গিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি তাদের সুখ-দুঃখ ও সমস্যার খোঁজখবর নিচ্ছেন তিনি।
বিভিন্ন বাজার, পাড়া-মহল্লা ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে স্থানীয়দের সঙ্গে মতবিনিময় করছেন আমিনুল ইসলাম। অসুস্থ ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি নাগরিকদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে সহযোগিতা করছেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। তাঁর এ তৎপরতায় ইউনিয়নজুড়ে নির্বাচনী আমেজও তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের মূল দায়িত্ব জনগণের সেবা করা, নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করা এবং এলাকার উন্নয়ন কার্যক্রমে নেতৃত্ব দেওয়া। পাশাপাশি স্থানীয় বিরোধ মীমাংসা, সামাজিক শান্তি বজায় রাখা এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সঙ্গে পরিষদ পরিচালনাও চেয়ারম্যানের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। এসব ক্ষেত্রে বর্তমান চেয়ারম্যানের ভূমিকা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন অনেকে।
স্থানীয় চায়ের দোকানি সাজু বলেন, শুধু রাস্তাঘাট, কালভার্ট কিংবা অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণ করলেই একটি ইউনিয়নের উন্নয়ন সম্পূর্ণ হয় না। মানুষের জীবনমান উন্নয়নে চিকিৎসা, শিক্ষা, কর্মসংস্থান, বিশুদ্ধ পানি, স্যানিটেশন, সামাজিক নিরাপত্তা ও সহজ নাগরিক সেবা নিশ্চিত করাও জরুরি।
চেয়ারম্যান মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘চেয়ারম্যানের চেয়ার আমার কাছে ক্ষমতার নয়, দায়িত্বের। আমি চেয়ারম্যান নয়, জনগণের সেবক হিসেবে থাকতে চাই। মানুষের হক ও অধিকার সম্পর্কে তাদের সচেতন করা এবং প্রাপ্য সেবা নিশ্চিত করাই আমার লক্ষ্য।’
তিনি আরও বলেন, ‘নাগরিক সেবা শুধু জন্মনিবন্ধন কিংবা দু-একটি সেবার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। ইউনিয়ন পরিষদের সব ধরনের সেবা জনবান্ধব ও সহজলভ্য করতে চাই। নাগরিক সেবা নিতে কোনো মানুষকে দিনের পর দিন চেয়ারম্যানের পেছনে ঘুরতে হবে—এমন সংস্কৃতি আমি চাই না। জনগণই আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’
আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘জনগণের সেবা করার জন্য কারও অনুমতির অপেক্ষায় থাকতে চাই না। মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থাকাই আমার দায়িত্ব। যদি জনগণ আমাকে আবারও দায়িত্ব দেওয়ার সুযোগ দেন, তাহলে আগের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে তারাপুর ইউনিয়নকে আরও উন্নত ও জনবান্ধব ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করব।’