নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীর মিরপুরে ফুটপাত উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে পুলিশ, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ভাসমান ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।
বুধবার দুপুর আড়াইটার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ আহ্বান জানান।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, রাজধানীর মিরপুর এলাকায় ঢাকা মহানগর পুলিশ ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন উচ্ছেদ অভিযান চালাচ্ছে। অভিযানকালে পুলিশ ও সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে ফুটপাতে বসা ভাসমান ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
তিনি জানান, বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মিরপুর-১৩ থেকে মিরপুর-১০ নম্বর এলাকার হোপ মার্কেট এলাকায় ফুটপাত উচ্ছেদ অভিযান চলাকালে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে সিটি করপোরেশনের কিছু সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি অভিযানে অংশ নেওয়া কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও আক্রান্ত হন। পুলিশের সদস্যদের সঙ্গেও ব্যবসায়ীদের সংঘর্ষ হয়। সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে গণমাধ্যমকর্মীরাও বাধার মুখে পড়েন। বিভিন্ন প্রতিবেদনে ডিএনসিসির গাড়িতে আগুন ও পুলিশের গাড়ি ভাঙচুরের কথাও এসেছে।
জামায়াত আমির বলেন, ‘এই আসনটি রাজধানীর একটি গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় আসন, যেখানে জনগণ তাদের মূল্যবান ভোট দিয়ে আমাকে নির্বাচিত করেছেন। সুতরাং জনগণের সুবিধা-অসুবিধা-সংক্রান্ত কোনো বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যের সঙ্গে পরামর্শ করা হলে বিষয়টি হয়তো আরও সমন্বিত ও ভিন্নভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হতো।’
তিনি বলেন, সংঘাতের পরিবর্তে বাস্তবতা উপলব্ধি করে এমন ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন, যাতে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা অযথা ক্ষতিগ্রস্ত না হন এবং সাধারণ মানুষের চলাচলের পথও নির্বিঘ্ন থাকে। এজন্য সমন্বিত ও বাস্তবভিত্তিক উদ্যোগ প্রয়োজন।
শফিকুর রহমান আরও বলেন, ‘মাসের পর মাস ধরে একদল অসাধু ও চাঁদাবাজ ব্যক্তি এসব ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর কাছ থেকে নিয়মিত চাঁদা নিয়ে তাদের এখানে ব্যবসা করার সুযোগ করে দিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তারা দৈনিক, সাপ্তাহিক, মাসিক ও বার্ষিক ভিত্তিতে চাঁদা আদায় করে।’
তার ভাষ্য, এ ধরনের কর্মকাণ্ডের আর্থিক বোঝা শেষ পর্যন্ত সাধারণ ক্রেতা ও জনগণের ওপর পড়ে।
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘বিচ্ছিন্ন কোনো পদক্ষেপ নয়; বরং সমন্বিত, সুপরিকল্পিত ও টেকসই পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন, যা সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের জন্য কল্যাণকর হবে।’
তিনি আরও বলেন, স্থানীয় সংসদ সদস্যকে অবহিত না করে এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টি তাকে বিস্মিত করেছে। এ বিষয়ে তারও দায়িত্ব রয়েছে এবং তাকে সম্পৃক্ত করা যেত। পারস্পরিক পরামর্শের মাধ্যমে কার্যকর সমাধান বের করা সম্ভব ছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি।
শফিকুর রহমান বলেন, উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করতে হলে আগে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। ভবিষ্যতে এ ধরনের যে কোনো পদক্ষেপ যেন সমন্বিতভাবে নেওয়া হয় এবং সংসদ সদস্যসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সম্পৃক্ত করা হয়।
তিনি বলেন, ‘আমি সবাইকে আপাতত শান্ত থাকার জন্য উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি। যেখানেই সমস্যা রয়েছে, সেখানেই সমাধানের পথও রয়েছে। তবে সেই সমাধান হতে হবে নিরপেক্ষ, বাস্তবভিত্তিক ও মানবিক—কাউকে অযথা ক্ষতিগ্রস্ত করে নয়।’
সবশেষে তিনি বলেন, ‘তবে ফ্যাসিবাদের দোসরদের কোনো জায়গা নেই।’