রাজশাহী: সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করে চাঁদাবাজি, ভয়ভীতি প্রদর্শন, প্রতারণাসহ পেশাবহির্ভূত কর্মকাণ্ডের অভিযোগ তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে পেশাদার সাংবাদিকদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে ভূমিমন্ত্রী ও রাজশাহী সদর-২ আসনের সংসদ সদস্যের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন রাজশাহীর পেশাদার সাংবাদিকদের একটি পক্ষ।
এ বিষয়ে সম্প্রতি মন্ত্রীর কাছে একটি লিখিত আবেদন দেওয়া হয়েছে। আবেদনের অনুলিপি রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার, রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি, জেলা প্রশাসক, রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) কমিশনার, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে পাঠানো হয়েছে।
আবেদনে বলা হয়, সাংবাদিকতার পরিচয় ও প্রেস কার্ড ব্যবহার করে কিছু ব্যক্তি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির ওপর প্রভাব বিস্তার, ভয়ভীতি প্রদর্শন, সুবিধা আদায় এবং ব্যক্তিগত বা গোষ্ঠীগত স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগ তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
একই সঙ্গে কেউ কোনো গণমাধ্যমের প্রকৃত সাংবাদিক কি না, তা সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান ও স্বীকৃত সাংবাদিক সংগঠনের মাধ্যমে যাচাইয়ের ব্যবস্থা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। সাংবাদিকতার পরিচয়ের অপব্যবহার বন্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ারও অনুরোধ করা হয়েছে।
আবেদনে রাজশাহী প্রেসক্লাবের ব্যবস্থাপনা নিয়েও বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিরোধ ও বিতর্ক রয়েছে উল্লেখ করে বিষয়গুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। গোলাম মোস্তফা মামুনসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের অভিযোগ তুলে সেগুলোর সত্যতা যাচাইয়ের অনুরোধ করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার কথাও আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া কয়েকজন ব্যক্তির রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা, বিভিন্ন মামলায় আসামি থাকা এবং অতীতে ছাত্র-জনতার ওপর হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগও আবেদনে রয়েছে। আবেদনকারীরা এসব অভিযোগের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট মামলার নথি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্য যাচাই করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
গত ৩০ সেপ্টেম্বর বিকেল সোয়া ৩টার দিকে রাজশাহীতে কয়েকজন সাংবাদিককে লক্ষ্য করে মোটরসাইকেল শোডাউন, চিৎকার-চেঁচামেচি ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরির অভিযোগও আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ধরনের ঘটনা সাংবাদিকদের মধ্যে বিভাজন ও সংঘাত বাড়াতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন আবেদনকারীরা।
তাদের বক্তব্য, কোনো ব্যক্তি সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করে অপরাধ বা আইনবহির্ভূত কর্মকাণ্ডে জড়িত হলে তার দায় পেশাদার সাংবাদিক সমাজের ওপর বর্তায় না। তবে একই সঙ্গে সাংবাদিকতার স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের অধিকার যাতে ক্ষুণ্ন না হয়, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।
আবেদনে আরও বলা হয়, পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় প্রকৃত সাংবাদিকদের হয়রানি, ভয়ভীতি বা বাধার মুখে পড়া ঠেকাতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে। এ জন্য আরএমপি ও পেশাদার সাংবাদিক সংগঠনগুলোর মধ্যে নিয়মিত মতবিনিময়ের ব্যবস্থা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
আবেদনকারীরা মনে করেন, সাংবাদিকতার স্বাধীনতা ও মর্যাদা রক্ষার পাশাপাশি পরিচয়ের অপব্যবহার বন্ধ করা গেলে সাংবাদিক, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা আরও বাড়বে।
তবে আবেদনে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।