আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগার থেকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) মধ্যরাতে তাকে ইসলামাবাদের শিফা আন্তর্জাতিক হাসপাতালে নেওয়া হয়। তিন দিন আগে পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ইমরান খানকে হাসপাতালে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল।
তবে দেশটির সরকার ওই নির্দেশনা পরিবর্তনের চেষ্টা করলেও সুপ্রিম কোর্ট তাতে সম্মতি দেয়নি। পরে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী শুক্রবার রাতে কারাগার থেকে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
ইমরান খানের দল পিটিআই বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তবে হাসপাতালে নেওয়ার পর পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
এর আগে পার্লামেন্ট বিষয়ক মন্ত্রী তারিক ফজল চৌধুরী জানিয়েছিলেন, সরকার সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা সম্পূর্ণভাবে মেনে চলবে।
আগস্টের শুরুতে করা স্বাস্থ্য পরীক্ষায় ইমরান খানের উচ্চ রক্তচাপ ও রক্তচাপের ওঠানামার বিষয়টি ধরা পড়ে বলে জানা গেছে। তার মধ্যে অস্থিরতা ও আতঙ্কের উপসর্গও রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ইমরানের আইনজীবী ও পরিবারের সদস্যদের দাবি, দীর্ঘদিন কারাগারে একাকী অবস্থানের কারণে তার শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
এ ছাড়া গত বছর থেকেই ইমরানের পরিবারের পক্ষ থেকে তার চোখের সমস্যা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়ে আসছে।
ইমরান খানকে হাসপাতালে নেওয়ার আগে শিফা আন্তর্জাতিক হাসপাতাল ও এর আশপাশে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। পুলিশের এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, হাসপাতালে কয়েকশ পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
২০২২ সালের আগস্টে অনাস্থা ভোটে হেরে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রিত্ব হারান ইমরান খান। এরপর তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয় এবং কয়েকটি মামলায় তাকে সাজাও দেওয়া হয়েছে। ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে তিনি কারাগারে বন্দি রয়েছেন।
ইমরান খানের স্ত্রী বুশরা বিবিও বিভিন্ন মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।
সূত্র: আলজাজিরা